শিরোনাম :
নরসিংদীতে অনুষ্ঠিত হলো ‘ক্যাশলেস বাংলাদেশ’ বিষয়ক র‍্যালি ও দিনব্যাপী সেমিনার নরসিংদীতে প্রথমবারের মতো হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক মানের মেরাথন: অংশ নিবে দেশ বিদেশের ২ হাজার দৌড়বিদ নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রি-এর বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৫ অনুষ্ঠিত নরসিংদীতে ফিড মিলের পানি নিষ্কাশন অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদ করায় পুলিশ দিয়ে কৃষক হয়রানি! প্রতিবাদে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ নরসিংদীতে অসহায় মানুষের মাঝে সাবেক কাউন্সিলর বাবু’র ঈদ উপহার বিতরণ ধবংসস্তূপ থেকে দেশকে পূনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছেন তারেক রহমান -খায়রুল কবির খোকন খাল খনন কর্মসূচি বর্ষাকালে শতভাগ কাজে আসবে- স্বাস্থ্যমন্ত্রী পলাশে ছাত্রদলের ইফতার ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত নরসিংদীর রাজপথ থেকে সংরক্ষিত আসনে আলোচনা রয়েছেন চারবারের এমপির পুত্রবধূ স্বপ্না আহমেদ হাসপাতালে কাউকে দালালি করতে দেব না : স্বাস্থ্যমন্ত্রী
শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩১ অপরাহ্ন

রায়পুরার সায়দাবাদ মাঠে প্রতি রাতে হচ্ছে অস্ত্রের মহড়া, নাশকতার আশঙ্কা!

স্টাফ রিপোর্টার / ৯৬৯ Time View
Update : রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫

রায়পুরার চরাঞ্চল সায়দাবাদ হাইস্কুল মাঠে প্রতি রাতে হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্রের মহড়া, গ্রেনেড নিক্ষেপের আদলে ককটেল নিক্ষেপ করে বিষ্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে। সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মতো করে শিখিয়ে নেয়া হচ্ছে আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার। আর এসব সশস্ত্র ট্রেনিং নিচ্ছে স্থানীয় আওয়ামীলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ ও ছাত্রলীগের নেতা কমীর্ ও সমর্থকরা। আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি ও মুহুমুর্হ ককটেল বিষ্ফোরণের শব্দে কেপেঁ উঠে জনপদ। আতঙ্কিত নিরীহ এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ভয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে অবহিত করাতো দূরে থাক মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।
খোজঁ নিয়ে জানা যায়, শ্রীনগর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সায়দাবাদ গ্রামের শাহ আলম এলাকায় আধিপত্য বজায় রাখতে ৫ আগষ্টের পর গড়ে তুলে অস্ত্রধারী শাহ আলম বাহিনী। ২০২৪ সালের ২২ আগষ্ট এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে শাহ আলম বাহিনীর হাতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয় প্রতিপক্ষ এরশাদ গ্রুপের গৃহবধু ও নবম শ্রেণীর স্কুল ছাত্রসহ ৬জন।
এ ঘটনায় রায়পুরা থানায় মামলা দায়ের করা হলে বাদী পক্ষের সহায়তায় রায়পুরা ও ঢাকার সভার এলাকা থেকে ২ জনকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মামলার প্রথম সারির শাহ আলমসহ ৪০/৫০জন গ্রেফতার অথবা আদালতে হাজির না হলেও পিছনের সারির প্রায় ৩০/৩৫জন আসামী উচ্চ আদালত থেকে জামিনে বেড়িয়ে আসে। এতেই তারা পুনরায় সংঘটিত হয়ে এলাকায় তারা ত্রাসের রাজত্ব্ কায়েম করেছে। এলাকার বিভিন্ন পেশার নিরীহ মানুষের বাড়ীতে চাদাবাজি, জমি দখল বাড়ীঘরে লুটপাট চালিয়ে সায়দাবাদ গ্রামটিকে সাধারণ মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তুলেছে। দাবীকৃত চাঁদা না দেয়ায় সায়দাবাদ গ্রামের কৃষকসহ কয়েক জনকে গুলি করে আহত করে শাহ আলম বাহিনীর সদস্যরা। তাদের অত্যাচার হতে বাচঁতে দেশের বিভিন্নস্থানে কর্মরত পেশাজীবি লোকজন গ্রামে আসতে সাহস পাচ্ছেনা।
গত ২১ জুলাই দু পক্ষের সংঘর্ষ হলে বালুচর পাড়ার এরশাদ গ্রুপের লোকজনের গুলিতে শাহ আলম গ্রুপের মোমেনা বেগম (৫০) নিহত হয়। এ ঘটনার পর শাহ আলম বাহিনীর লোকজন আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত হয়ে গ্রামের নিরীহ লোকজন সহ প্রতিপক্ষের ৪০/৫০টি পরিবারের বসত ঘরে হামলা চালিয়ে ব্যপক লুটপাটসহ অগ্নি সংযোগ করে পুড়িয়ে দেয়। এতে প্রায় শতাধিক পরিবার বাড়ীঘর হারা হয়ে রায়পুরা ও নরসিংদী শহর এলাকায় আশ্রয় নেয়। অনেকে পাশ^বতীর্ গ্রামে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে আশ্রয় নেয়। এর পর থেকে সায়দাবাদ গ্রামটি সম্পুর্ণ দখলে নেয় শাহ আলম বাহিনী। বাঁশগাড়ী ফাড়ি পুলিশের সদস্যরা অস্ত্রধারীদের অতর্কিত হামলার ভয়ে নিজেদের অনেকটা আড়ালে করে মাঝে মধ্যে সায়দাবাদ গ্রামে টহল দিয়ে থাকে। শাহ আলম বাহিনীর অস্ত্রের মহড়া ও বিভিন্ন অপরাধের কথা পুলিশ জানলেও কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে পারেনি ।
সায়দাবাদ গ্রামের একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে এবং আবু কাউছার নামের একজন জানায়, শাহ আলম বাহিনী সায়দাবাদ গ্রামটিকে সম্পুর্ণ দখলে নিতে এ্যাসল্ট রাইফেল সহ বন্দুক, সর্টগান, পিস্তলসহ নানা ধরনের ৪০/৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র গুলি ও ককটেল সংগ্রহ করে মজুদ করেছে। আর এসব অস্ত্রের যোগান দিয়েছে রায়পুরা নজরপুর গ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়ী রুবেল ও শ্রীনগর গ্রামের কুখ্যাত সন্ত্রাসী সোহেল। সোহেল অস্ত্র ও গুলীসহ পালিয়ে যাওয়ার সময় যৌথবাহিনীর অভিযানে সম্প্রতি গ্রেফতার হয়। গত শুক্রবার রুবেলের নজর পুরের বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ ৪ টি বন্দুক, গুলি ও ১৮টি অবিষ্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে।
সম্প্রতি বিভিন্ন গণ মাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঢাকা দখলসহ নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামীলীগের ক্ষমতায় আসার খবর প্রচারিত হতে থাকলে সায়দাবাদ গ্রামে শাহ আলম বাহিনীর তৎপরতা বৃদ্ধি পায়। প্রায় প্রতিদিন রাতে সায়দাবাদ হাইস্কুল মাঠে শাহ আলম বাহিনীর ৪০/৫০ জন অস্ত্রধারী একত্রিত হয়ে রাতভর অস্ত্রের প্রশিক্ষণ নিয়ে থাকে। তারা আগ্নেয়াস্ত্রের গুলি ফুটিয়ে ও ককটেল বিষ্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকা প্রকম্পিত করে তোলে। সাধারণ নিরীহ মানুষ এসব প্রত্যক্ষ করলে এ বিষয়ে মুখ খোলার সাহস নেই তাদের। নিয়মিত অস্ত্র হাতে প্রশিক্ষণ নিতে দেখা যায়, আ’লীগ নেতা ও শাহ আলম বাহিনীর প্রধান শাহ আলম, যুবলীগের কথিত ডা. জসিম উদ্দিন, ইকবাল, সালাউদ্দিন, শিপন, স্বেচ্ছাসেবক লীগের রহিম, সেলিম, হারুন, আরমান, ছাত্রলীগের রনি, মাহফুজ, বাবু সহ ৪০/৫০জন। এসব প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা নাশকতা ঘটাতে পারে বলে মনে করছেন এলাকার লোকজন।
তাদেরকে অস্ত্র ও বোমা হামলার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে শাহ আলম বাহিনীর সদস্য ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসর প্রাপ্ত সার্জেন্ট জসিম উদ্দিন ও নজরুল ইসলাম।
শীর্ষ সন্ত্রাসী রুবেল শাহ আলম বাহিনীর আশ্রয়ে প্রশ্রয়ে সায়দাবাদ গ্রামে অবস্থান নিয়ে তার অস্ত্র ও মাদক ব্যবসার বিস্তার ঘটিয়ে চলেছে। এসব খুন, অস্ত্র, চাঁদাবাজি, মাদকসহ একাধিক মামলার আসামীরা সায়দাবাদ ও আশে পাশের গ্রামে তাদের অপরাধ স¤্রাজ্য বিস্তার করার খবর থানা পুলিশ জানলেও তাদের গ্রেফতার করতে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছেনা। আর এতেই এলাকার সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। এখনি তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা না নিলে এলাকায় ব্যপক প্রাণহানিসহ নিরীহ মানুষের জান মালের ক্ষতি হতে পারে। এ ব্যপারে নিরীহ শান্তিপ্রিয় এলাকাবাসী যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category